[+] Tools

Color Theme

Font Size

Results

Cookie color (CSS):

Cookie width (CSS):

Cookie fontsize(CSS):


Use the reload link, to see, if the cookie works!

Reload page !
Universatil template, by 55thinking
Sreemadbhagbad Gita Sangha

সরস্বতী

Attention: open in a new window. PDFPrintE-mail

Last Updated (Tuesday, 30 November 1999 00:00) Written by Radha Krishna Saturday, 31 January 2009 05:28

 

আমাদের শাস্ত্রে শুভ্র বর্ণটি সত্ত্বগুণ, যশঃ, কলঙ্কহীনতা, পবিত্রতা ও শুচি শুদ্ধভাবের চিহ্ন। বিদ্যাদায়িনী সরস্বতীও সব্বর্শুক্লা। তঁাহার দেহ কান্তি, আভরণ ও হংসবাহন সবই শুক্ল। মনুষ্যজীবনে সচ্চরিত্র ও বিদ্বান হইবার আকাঙ্ক্ষায় শ্রদ্ধার সহিত সারস্বত সাধনা করিলে নিশ্চয়ই তিনি সাধককে বিদ্বান, জ্ঞানী ও সচ্চরিত্র হইবার শক্তি দান করেন। তাঁহার কৃপায় দেহ, মন, বুদ্ধি, বাক্য, আচার সবই পবিত্র হয়। জ্ঞানালোকে মনের অজ্ঞানঅন্ধকার দূর হইলে মানুষ বহু সদ্‌গুণে ভূষিত হয় এবং নিঃস্বার্থ জনসেবা করিয়া ধন্য হয়। বাগ্‌দেবতার কৃপায় অপরাবিদ্যা লাভের সঙ্গে সঙ্গে পরাবিদ্যা অর্থাৎ ঈশ্বরভক্তি ও ব্রহ্মজ্ঞান লাভের পথ সুগম হইয়া যায়। বেদ, বেদাঙ্গ, বেদান্তাদি দর্শন সমূহ, অর্থনীতি, কৃষি, চিকিৎসা, শিল্পাদি কলা, বিজ্ঞান এবং অন্যান্য বিষয়ের সকল শাস্ত্রগ্রন্থই সরস্বতীর বাঙময়ী মূর্ত্তি। এই সকল গ্রন্থ মনোযোগ সহকারে পাঠ করিয়া সৎশিক্ষা লাভে মানুষ ইহলোক ও পরলোক উভয় স্থানেই মঙ্গলযুক্ত হয়। ঐহিক সমৃদ্ধি ও পরলোকে মুক্তি এই দুইটি বিষয়েই আমাদের ধম্মর্ আমাদিগকে শিক্ষা প্রদান করে। এই শিক্ষালাভের প্রধান উপায় শিক্ষকের অনুগত হইয়া গ্রন্থসমূহে অধিগত বিদ্যার অনুশীলন অর্থাৎ শ্রবণ, মনন ও নিদিধ্যাসন। পূর্বে যখন মুদ্রণ যন্ত্র ছিল না তখন গুরুর মুখে আবৃত্তি শুনিয়া শুনিয়া শিষ্য বিদ্যা আয়ত্ত করিতেন এইরূপ মুখে মুখে শাস্ত্র প্রবহমান ছিল। বৃক্ষের পত্রে, শিলায় বা ধাতুফলক প্রভৃতিতেও শাস্ত্র লিখিত হইত। মুদ্রাযন্ত্র প্রবর্ত্তিত হইবার পরে দেশে বিদেশে গ্রন্থাদির প্রচার, প্রসার ও ভাবের আদান প্রদানের বিশেষ সুযোগ সুবিধা ঘটিল। লোকমঙ্গলকর গ্রন্থসমূহই সরস্বতীর প্রধান মূর্ত্তি এবং গ্রন্থাগারই দেশের সর্বোৎকৃষ্ট সম্পদ।

গুরুর উপদেশ ও নিজের সাধনাসহ গ্রন্থ অনুশীলনের দ্বারাই মানুষ জ্ঞান বিজ্ঞানাদি সকল ক্ষেত্রেই কৃতী হইয়া ইহলোকে সচ্চরিত্র, দেবমানব, সমৃদ্ধশালী ও পরলোকে মুক্তিলাভ করিতে পারে। কিন্তু হায়! এখন প্রায়ই দেখা যায় ছাত্রছাত্রীগণ মুখ্যা, সরস্বতী অর্থাৎ গ্রন্থের অধ্যয়ন সংরক্ষণ বা পরিচর্য্যায় উদাসীন কিন্তু প্রতি বৎসর কেবল সরস্বতীর প্রতিমূর্ত্তি আনিয়া নানাপ্রকার উৎসবাদিসহ বাহ্য প্রাণহীন পূজাতেই বিভোর। সরস্বতীর অধিষ্ঠান বিদ্যালয়সমূহের অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষকশিক্ষিকার প্রতি শ্রদ্ধার অভাব, উদ্ধত আচরণ এবং নানা বিশৃঙ্খল ব্যাপার এখন প্রায়ই দেখা যায় ও শোনা যায়। ফলে বিনয়াদি সদ্‌গুণ লাভ, মনুষ্যত্ব অর্জ্জন এবং বিদ্যাশিক্ষা প্রভৃতি যে সকল উদ্দেশ্যে প্রাচীনকাল হইতে আমাদের সারস্বত উৎসব প্রচলিত হইয়াছে তাহা বর্তমানে কেবল একটি শুষ্ক প্রাণহীন আচার মাত্রে উপিস্থত হইয়াছে। গুরু ও গ্রন্থের প্রতি শ্রদ্ধা না থাকিলে জ্ঞানলাভ হয় না। ‘শ্রদ্ধাবান্‌ লভতে জ্ঞানং তৎপরঃ সংযতেন্দ্রিয়ঃ’–গীতা।

শিক্ষক ও গ্রন্থের কথার প্রতি শ্রদ্ধাসহ গ্রন্থের অনুশীলনে লাগিয়া থাকিতে হইবে এবং সঙ্গে সঙ্গে ইন্দ্রিয় সংযম করিয়া সচ্চরিত্র হইতে হইবে, তবেই জ্ঞানলাভ হইবে। সংস্কৃতে একটি ভাল কথা আছে ‘গ্রন্থী ভবতি পণ্ডিত’ অর্থাৎ কেবল আদরের সহিত গ্রন্থগুলি সংরক্ষণের দ্বারা গ্রন্থের সংসর্গে পণ্ডিত হওয়া যায়। মনু বলিয়াছেন, ‘অজ্ঞেভ্যো গ্রন্থিনঃ শ্রেষ্ঠা গ্রন্থিভ্যো ধারিণো বরাঃ। জ্ঞানিভ্যো ব্যবসায়িনঃ।’ অজ্ঞ ব্যক্তি অপেক্ষা বহু গ্রন্থশালী শ্রেষ্ঠ, কেবল গ্রন্থবান্‌ ব্যক্তি অপেক্ষা যঁাহার গ্রন্থ কণ্ঠস্থ আছে তিনি শ্রেষ্ঠ। তদপেক্ষা গ্রন্থে অধীত বিষয় যিনি জ্ঞানার্জন করিয়াছেন তিনি শ্রেষ্ঠ। আবার তদপেক্ষা যিনি নিজের জ্ঞান বিতরণ করেন তিনি শ্রেষ্ঠ।

জ্যোতির্ময় নন্দের ‘মাতৃদর্শন’ থেকে

সৌজন্যে: দৈনিক বর্তমান, কলকাতা, শনিবার ৩১ জানুয়ারি ২০০৯, ১৭ মাঘ ১৪১৫
http://www.bartamanpatrika.com/content/amritakatha.htm

Up
Up