[+] Tools

Color Theme

Font Size

Results

Cookie color (CSS):

Cookie width (CSS):

Cookie fontsize(CSS):


Use the reload link, to see, if the cookie works!

Reload page !
Universatil template, by 55thinking
Sreemadbhagbad Gita Sangha

প্রথম শাহিস্নানে বৃন্দাবনে যেন পূর্ণকুম্ভের আভাস

Attention: open in a new window. PDFPrintE-mail

Last Updated (Tuesday, 30 November 1999 00:00) Written by Radha Krishna Sunday, 31 January 2010 20:39

অশোককুমার কুণ্ডু, বৃন্দাবন

বৃন্দাবনের যমুনায় আজ প্রথম শাহিস্নান।

বৃন্দাবনে চলছে স্নান। — নিজস্ব চিত্রবৃন্দাবনের বৈঠক-কুম্ভে আজ মনে হচ্ছিল যেন হরিদ্বারে বা ইলাহাবাদের কুম্ভস্থলে বসে আছি। আজ যেন মথুরা-বৃন্দাবনের সব পথ গেছে যমুনার দিকে। ভোরের দিকে আকাশ ভরে ছিল পূর্ণচেন্দ্র। পথ ভরে ছিল মানুষে মানুষে। সকলেই স্নান করতে চায় ভিড় এিড়য়ে। কিন্তু কে সি ঘাট থেকে শুরু করে যমুনার তটে নানা বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের ভক্ত-সমাগম। মহামণ্ডলেশ্বর, বৈষ্ণব আখড়ার রাজকীয় জলুস সব দেখার মতো। তাই দেখতে আর বাবাজিদের প্রণাম করতে গোটা ভারতবর্ষের বৈষ্ণব উপাসকেরা এসে হাজির। তবে এখানে নাগা সন্ন্যাসী নেই। “ব্রজবিদেহী বৈষ্ণবদের নাগা হয় না। অন্তত কৌপীন পরবেন।” জানালেন বৃন্দাবনবাসী, বিরক্ত বৈষ্ণব (অ-গৃহী) পরিষদের অধ্যক্ষ সচ্চিদানন্দ দাসজি।

তার জন্য অবশ্য ভিড় কম নয়। স্নানের ঘাটে তেমন কোনও কড়াকিড় ছিল না। শুধুমাত্র মেলার সামনের ঘাটটুকুই মহন্ত, শ্রীমহন্ত, মহামহণ্ডলেশ্বরদের জন্য নির্ধারিত। এর আগে-পিছে যমুনার যে কোনও ঘাটে লক্ষ লক্ষ গৃহীরা স্নানে মেতেছেন। ডুব দিয়েছেন প্রাণভরে যমুনার নোংরা, কালো জলে। ডুবিয়েছেন পুত্র-কন্যাদের। কত রকমের যে বৈষ্ণব সম্প্রদায়!

বল্লভাচার্য সম্প্রদায়ের শাহিস্নানের জলুস ছিল দেখবার মতন। মিছিলে হাতি ঘোড়া ছিল। ভিড় এড়াতে দেখলাম খুব সকালে এলেন সত্যব্রত ব্রহ্মচারীজি। পুজো-পাঠ আর অধ্যয়ন নিয়েই থাকেন। বললেন, “অত ভিড় এই বয়সে সামলাতে পারব না। তবে আজ মাঘ মাসের পূর্ণিমা। বৈষ্ণবদের কাছে এটি বিশেষ পুণ্যস্নানের দিন।”

ঘাটে স্নান করতে দেখা গেল বৃন্দাবনের চতুঃ সম্প্রদায়ের মহন্ত রাসবিহারী দাসজিকে। আচার্য দেবেন্দ্র চৈতন্যজিকেও দেখলাম। ইনি যৌবনে ভারতবর্ষের তিনটি বিখ্যাত দৈনিক পত্রিকায় কলম লিখতেন। বর্তমানে পরম বৈষ্ণব। দেখা গেল বৃন্দাবনের নামকরা অধ্যাপক বিনোদ বেন্দ্যাপাধ্যায়কেও। যত মানুষ তত ধুলো উড়ছে মেলাস্থলে। স্নানের ঘাটের সামনে পুলিশ ভিড় সামলাচ্ছেন। তাঁদের নির্দেশ দিলেন জেলা অধিকারী প্রভাত কুমার শর্মা।

খোয়া-পায়া শিবিরে চার-পাঁচ বছরের একটি বাচ্চা, নাম গোপাল, অনর্গল কেঁদে চলেছে। তাকে সামলাচ্ছেন বৃন্দাবনের স্থায়ী বাসিন্দা মদনগোপাল সেন। অবশেষে গোপালের বাবা এসে হারানো গোপালকে নিয়ে গেলেন। অত বড় শাহিস্নানে কোনও খারাপ ঘটনা না ঘটার জন্য যমুনা মাইয়াকে, রাধারানিকে পথের ধুলোয় প্রণাম জানালেন মানুষ। শাহিস্নানের ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানবাহনের গতিমুখ ঘুরিয়ে দিচ্ছে প্রশাসন।

সামনে থাকল তিনটি সাধারণ স্নান ও আরও দুটি শাহিস্নান। বৃন্দাবনের বৈঠক-কুম্ভ শেষ হবে পঁচিশ ফেব্রুয়ারি ফাল্গুনী শুক্লা একাদশীর স্নানে। তার পরই সমস্ত বৈষ্ণব বাবাজি, আখড়ার শ্রীমহন্ত-মহন্তরা চলে যাবেন হরিদ্বার পূর্ণকুম্ভের স্নানে।

আনন্দবাজার, কলকাতা, ১৭ মাঘ ১৪১৬ রবিবার ৩১ জানুয়ারি ২০১০
http://www.anandabazar.com/31desh6.htm

Up
Up