[+] Tools

Color Theme

Font Size

Results

Cookie color (CSS):

Cookie width (CSS):

Cookie fontsize(CSS):


Use the reload link, to see, if the cookie works!

Reload page !
Universatil template, by 55thinking
Sreemadbhagbad Gita Sangha

জন্মাষ্টমীভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব

Attention: open in a new window. PDFPrintE-mail

Last Updated (Tuesday, 30 November 1999 00:00) Written by Radha Krishna Thursday, 09 August 2012 02:30

নিরঞ্জন অধিকারী

সনাতন ধর্ম বলে, ব্রহ্ম সকল সৃষ্টির মূল। এ ব্রহ্ম নিরাকার, নির্গুণ বা গুণাতীত। অর্থাৎ সত্ত্ব, রজ ও তম_ এ তিনগুণের অতীত। এ ব্রহ্ম জীব-জগতের ওপরে প্রভুত্ব করেন। তখন তাঁকে বলা হয় ঈশ্বর। ঈশ্বর যখন জীবজগতের প্রতি কৃপা বর্ষণ করেন, তখন তাঁকে ভগবান বলা হয়।
আবার ঈশ্বর যখন কোনো রূপ ধারণ করে পৃথিবীতে আবির্ভূত হন, তখন তাঁকে অবতার বলা হয়। অবতারকে প্রধানত দু'ভাগে ভাগ করা যায়। অংশাবতার ও পূর্ণাবতার। ঈশ্বরের অংশবিশেষ যখন পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন, তখন তাঁকে বলা হয় অংশাবতার। আবার ঈশ্বর যখন স্বয়ং অবতীর্ণ হন, তখন তাঁকে বলা হয় পূর্ণাবতার। ঈশ্বর পূর্ণাবতাররূপে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নামে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। তাই শ্রীমদ্ভগবদ্ পুরাণে বলা হয়েছে 'কৃষ্ণস্তু ভগবান স্বয়ং'।
ঈশ্বর কেন অবতাররূপে পৃথিবীতে নেমে আসেন? তার কারণ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নিজেই শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় বলেছেন :'যদা যদাহি ধর্মস্য গ্গ্নানির্ভবতি ভারত অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মনং সৃজাম্যহম্। পরিত্রাণায় সাধুনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্ ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে।' অর্থাৎ যখন যখন ধর্মের গ্গ্নানি হয়, অধর্মের উত্থান ঘটে, তখন তখন সজনদের পরিত্রাণ, দুষ্কৃতকারীদের বিনাশ এবং ধর্ম সংস্থাপনের জন্য, অন্যায়ের প্রতিবিধান করে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠার জন্য ভগবান জীবদেহ ধারণ করে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন।
পুরাণ অনুসারে 'কাল'কে চারটি যুগে ভাগ করা হয়েছে। সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলিযুগ। দ্বাপর যুগে বেশ কিছু রাজা ভুলে গিয়েছিলেন রাজধর্ম। হয়ে উঠেছিলেন বিলাসী আর অত্যাচারী। এদের মধ্যে ছিলেন মগধরাজ জরাসন্ধ, মথুরার রাজা কংস, চেদিরাজ শিশুপাল, নরকামুর, জাম্ববান, পুণ্ড্রবর্ধনের বাসুদেব প্রমুখ।
হস্তিনাপুরে কৌরর রাজপরিবারের জেঠতুতো ও কাকাতো ভাইদের মধ্যেও ক্ষমতা নিয়ে সংঘাতের সৃষ্টি হয়। দুর্যোধন, দুঃশাসন প্রভৃতি কৌরর ভাইয়েরা, কাকাতো েপাঁচ ভাই যুধিষ্ঠির ভীম, অর্জুন, নকুল, সহদেবের সঙ্গে রাজ্যের অধিকার নিয়ে কুরুক্ষেত্র প্রান্তরে এক ভীষণ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। তাতে জড়িয়ে পড়েন ভারতবর্ষের রাজন্যবর্গ। তার ফল হয় ভয়াবহ এবং একই সঙ্গে শোকাবহ।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কংস, শিশুপালদের হত্যা করেন। জরাসন্ধ ভীমের হাতে নিহত হয়। অপরাপর রাজাও সমুচিত শান্তি পান। সমগ্র ঘটনার মূল নেতৃত্বে ছিলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ মথুরায় ভাদ্রমাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে ধরাধামে আবির্ভূত হন। তাঁর পিতা বসুদেব, মাতা দেবকী। কংস সম্পর্কে তার মামা হতেন। তবু ধর্ম বা ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে কংসকে হত্যা করেন। কংস নিজ পিতা উগ্রসেনকে বন্দি করে কারাগারে রেখে নিজে সিংহাসন দখল করেছিলেন। তিনি ও তার অনুচররা প্রজাদের ওপর অত্যাচার করতেন। বিজ্ঞভক্তদের নির্যাতন করতেন।
অন্যদিকে কংস নিজেই শ্রীকৃষ্ণ ও তার দাদা বলরামকে ষড়যন্ত্র করে হত্যা করতে চেয়েছিলেন। তাই আত্মরক্ষা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কংসকে হত্যা না করে উপায় ছিল না।
শ্রীকৃষ্ণ কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেননি। তিনি অর্জুনের সারথীরূপে যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। অর্জুনের আত্মীয়দের সঙ্গে যুদ্ধ করতে চাইছিলেন না। কিন্তু কর্তব্যকর্ম নিষ্কামভাবে করে যেতে হবে। ন্যায়ের পক্ষে কর্ম করে যেতে হবে। এটাই ধর্ম। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে সেই উপদেশই দিয়েছিলেন। এ উপদেশ দিতে গিয়ে তিনি জীবনের ক্ষেত্রে পালনীয় কর্তব্য সম্পর্কে অন্যান্য বিষয়েও উপদেশ দিয়েছিলেন। এ উপদেশমালাকে নিয়ে পৃথক গ্রন্থ হয়েছে। তার নাম শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা।
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় জ্ঞান, কর্ম ও ভক্তি_ এ তিনের সমন্বয় সাধিত হয়েছে। প্রকৃত জ্ঞান, নিষ্কামকর্ম ও অকুণ্ঠ ভক্তি জীবনকে সফল করতে পারে। তাই শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার শিক্ষা কেবল হিন্দুধর্মের একই পবিত্র গ্রন্থই নয়, মহাভারতের অংশ হয়েও তা পৃথক ধর্মগ্রন্থের মর্যাদাপ্রাপ্ত, সকল মানবের জীবনে প্রয়োগযোগ্য এবং অনুসরণীয় দর্শন।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর আবার কুসুমের মতো কোমল_ কল্যাণদাতা। আমরা যেমন মানবতায় কোমল হবো, তেমনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে হবো কঠোর। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও কর্ম থেকে আমরা এ শিক্ষাই পাই।

নিরঞ্জন অধিকারী :অধ্যাপক সংস্কৃত বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সৌজন্যে: দৈনিক সমকাল: বৃহস্পতিবার | ৯ আগস্ট ২০১২ | ২৫ শ্রাবণ ১৪১৯ | ২০ রমজান ১৪৩৩

Up
Up